সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় বলয়গ্রাস বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ

By: Nation1 Voice
Jun 21, 2020

তিতাস অরণ্য,নেশন১ভয়েস ঢাকা : বছরের প্রথম এই সূর্যগ্রহণকে বলয়গ্রাস গ্রহণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রহণের সময় আকাশে যখন আগুনের চাকা দেখা যায়, তখন তাকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ তো বটেই, পুরো উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় বলয়গ্রাস এটি। বার্ষিক এই সূর্যগ্রহণ ঢাকার আকাশে দেখা যায় ১১টা ২৩ মিনিটের দিকে। এ সময় থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ২টা ৫২ মিনিটে। সবচেয়ে বেশি গ্রহণ দেখা যায় বেলা ১টা ১২ মিনিটে। এ সময় প্রায় পুরোটাই চাঁদের আড়ালে লুকাবে সূর্য। এই গ্রহণের স্থায়িত্ব হয় ৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। চাঁদের আড়াল থেকে সূর্যের যে অংশটি দেখা যাবে, তাকে অনেকটা আগুনের আংটির মতো দেখতে লাগবে। অমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় ঘটে থাকে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শেষ সূর্যগ্রহণ হয়। এদিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয় এবং রিং অফ ফায়ার তৈরি হয়। আরব ভূখণ্ড থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছিলো। এই গ্রহণে চাঁদের ছায়া সূর্যের ওপর এমনভাবে পড়বে, যাতে সূর্যের চারপাশের আলোর বলয় দেখা যায়। এই গ্রহণে চাঁদের ছায়া সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে গ্রাস করতে পারে না। কর্কটক্রান্তি রেখা বা অক্ষাংশ বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। সূর্য উত্তরায়ণের শেষ সীমাও এই দিনে সংঘটিত হয়। আর এই দিনটিই কিনা সূর্য বেছে নিল চাঁদের আড়ালে মুখ লুকাতে। সূর্যগ্রহণ হর-হামেশা হয় না। আবার হলেও পূর্ণগ্রাস হয় না সব সময়। যখন সূর্যগ্রহণের ষোলকলা পূর্ণ হবে, অর্থাৎ চাঁদের ছায়া পুরোটা ঢেকে যাবে, তখনও ছায়ার চারপাশে একটা উজ্জ্বল বৃত্ত দেখা যাবে। অর্থাৎ সূর্যটা তখন চাঁদের চারপাশে দেখা যাবে রিং বা বলয়ের মতো। এ কারণেই এ ধরনের গ্রহণের নাম বলয়গ্রাস। বাংলাদেশ থেকে পূর্ণ বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা যায়নি। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব বা পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সারা বছর একই রকম থাকে না, বাড়ে-কমে। এ কারণেই কখনো বলয়গ্রাস, কখনো পূর্ণগ্রাস আবার কখনো আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা দেয়। ইতিহাস বলছে, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে পরিচিত সূর্যগ্রহণের পর্যায়কাল। ঐ সময় ক্যালান্ডরে জ্যোতিষীরা গ্রহণ সম্বন্ধে একটা আশ্চর্য মিল লক্ষ করেন। তারা দেখেন যে ১৮ বছর ১০ দিন পরপর গ্রহণ পুনরাবর্তিত হয়। এই থেকে সারোস চক্র দিয়ে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণগুলি চিহ্নিত করার প্রথা চালু হয়। প্রতিটি সারোসচক্র প্রায় ৭৫টি গ্রহণে সমাপ্ত হয়। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে হঠাৎ দিনের বেলা রাতের অন্ধকার নেমে আসে এবং চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে হঠাৎ একটা পরিবর্তন আসে। পাখিরা সন্ধ্যার আভাস পেয়ে ফিরে যেতে থাকে বনে, বাতাস স্থির হয়ে যায়, হঠাৎ তাপমাত্রা কমতে থাকে। 

 




leave a comment

Facebook- এ লাইক করুন

Twitter- এ অনুসরণ করুন


খেলার জগত सभी ख़बरें पढ़ें...

মনোরঞ্জন सभी ख़बरें पढ़ें...